নোটাঃ নির্বাচনী প্রহসনের “বাইরে” নাকি !?
নোটাঃ নির্বাচনী প্রহসনের “বাইরে” নাকি !?

Posted on 28th April, 2026 (GMT 22:12 hrs)
ABSTRACT
In this sharp critique of India’s electoral system amid the 2026 West Bengal Assembly elections, the author argues that elections have become fully stage-managed spectacles by PR experts, far beyond Chomsky’s 1989 idea of merely ratifying pre-selected options. He views NOTA as a purely symbolic moral protest with no real power — even if it gets the highest votes, the election is not cancelled and the top candidate still wins. The entire process is called a predetermined farce rigged by mass voter deletions (nearly 91 lakh), fake voters, EVM tampering, opaque counting, a biased Election Commission, money-muscle power, and institutional decay. Despite their differences, mainstream parties follow the same neoliberal policies and identity politics, offering no genuine choice. The essay concludes that voting is pointless; NOTA or abstention combined with demands for Right to Recall and proportional representation is a more honest response.
“চমস্কি:… রাজনৈতিক ব্যবস্থা ক্রমশ এমনভাবে কাজ করছে যেখানে জনসাধারণের কোনো প্রকৃত ভূমিকা নেই। মানুষ শুধু সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিচ্ছে না তা-ই নয়, তারা এমনকি সামনে আনা সিদ্ধান্তগুলোকেও অনুমোদন (ratify) করার প্রয়োজন বোধ করছে না। তারা ধরে নিচ্ছে যে সিদ্ধান্তগুলো এমনিতেই নিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তাদের ভোট দেওয়া বা না দেওয়ার ওপর তার কোনো প্রভাব নেই।
প্রশ্ন: “Ratification” বলতে কী বোঝাচ্ছেন?
চমস্কি: “Ratification” মানে এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে ভোটার হিসেবে আমার সামনে দুটি অবস্থান রাখা হয়। আমি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সেই দুটির মধ্যে যেটা চাই, সেটাকে বেছে নিই। এটা গণতন্ত্রের খুবই সীমিত একটি রূপ। সত্যিকারের অর্থবহ গণতন্ত্রে আমি নিজেই সেই অবস্থানগুলো তৈরির প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করব। সেই অবস্থানগুলো আমার সক্রিয়, সৃজনশীল অংশগ্রহণের প্রতিফলন হবে—শুধু আমার নয়, সবারই। সেটাই হবে প্রকৃত গণতন্ত্র। আমরা সেই জায়গা থেকে অনেক দূরে আছি। কিন্তু এখন তো আমরা সেই সীমিত “ratification”-এর স্তর থেকেও সরে যাচ্ছি। যখন নির্বাচনগুলো পুরোপুরি মঞ্চস্থ (stage-managed) হয়ে যায়, যেখানে জনসংযোগ (PR) শিল্প ঠিক করে দেয় প্রার্থীরা কী বলবে, তখন “ratification”-এর সামান্য অংশটুকুও হারিয়ে যেতে থাকে। তখন আপনি আর আশা করেন না যে প্রার্থীরা কোনো আদর্শ বা অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করবে; বরং আপনি আশা করেন তারা শুধু সেটাই বলবে, যা জনসংযোগ বিশেষজ্ঞরা বলেছে তাদের পরবর্তী ধাপে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।” (“অর্থপূর্ণ গণতন্ত্র”-বিষয়ক আলোচনায় বিল মোয়ার্সের নেওয়া সাক্ষাৎকারে নোম চমস্কি, ১৯৮৯)
নোটা (NOTA)। নন অফ দি অ্যাভব। কোনো প্রার্থীকেই কোনো ভোট নয়।
আজ্ঞে হ্যাঁ। ইভিএম মেশিনের একদম “শেষ” অপশন।
কথাটা শুনলেই তৎক্ষণাৎ মনে হয় “ভোট নষ্টের কারবার” ইত্যাদি। নোটা-কে কিছু (সঙ্গত) কারণেই অনেকেই (বর্তমান কাঠামোয়) মানেহীন বলেই ভাবেন।
হ্যাঁ। নোটা শুধুই নৈতিক, প্রতীকী প্রতিবাদ। তার দৌড় ওই অব্দিই। নোটা হারা-জেতা নির্ধারণের খেলায় কোনোরকম প্রভাব ফেলতে পারেনা। কোনো কেন্দ্রে নোটা যদি ৯০% ভোটও পায়, তবে সেই হিসেবকে ধর্তব্যের মধ্যে না এনে তার ঠিক পরে যে প্রার্থী সবথেকে বেশি শতাংশ ভোট পেয়েছে, তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। এই হচ্চে (আপাতত) নিয়ম। অতএব, রাইট টু রিজেক্টকে দাখিল করতে পারেনা নোটা। এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে কয়েক বছর আগে অব্দি অনেক আলোচনা হয়েছে। এটা আমাদের আজকের ভারতবর্ষে নোটা-র অবস্থা, সেই ২০১৩ সাল থেকেই। কেমন যেন আধা-খ্যাঁচড়া। ব্যাপারটা “আছে” ঠিকই – তবে শুদ্ধু কাগজে-কলমে। রাখতে হয় বলেই যেন রাখা। বাস্তবে সেরকম কোনো কাজে দেয় না। ওই নিউজ চ্যানেলে কিংবা খবরের কাগজে ফলাফলের হিসেব দেখতে বসার সময় একটু-আধটু চোখে পড়েও পড়েনা মার্কা ব্যাপার।
তবু – কয়েকটা কথা মনের মধ্যে দানা বাঁধে।
ধরুন—আপনি দু’টো দলকে আপাতভাবে “বিরোধী” বলে ভাবছেন। তাই (নিঃসন্দেহেই) খুব খারাপকে আটকাতে তথাকথিত কম খারাপকে বেছে নিতে গেলেন। রণকৌশলের বাস্তববাদীতায় হয়তো এমন সিদ্ধান্ত অনেকেই নেন। আমি তাঁদেরকে সম্পূর্ণ দোষটা দিচ্ছি না।
তবু তলে তলে এই তথাকথিত “বিরোধী”দের মধ্যেই হয়তো চলছে মহাভোজ – পর্দার আড়ালে। গুপচুপ।
আবার কারোর মুখের বুলিতে মার্ক্স-লেনিন, কিন্তু তর্জনীর চাপে রাম।
CPIM NOW: THE DOUBLE STANDARDS OF THE “REDS” এখানে দেখুন⤡
সোজাসাপ্টাভাবে একটা জিনিস দেখুন – যখন “ভোট” ব্যাপারটা ব্যবস্থাগতভাবেই আদ্যন্তই একটা প্রাক-নির্ধারিত প্রহসনমাত্র– সেখানে কিই বা মানে থাকে ভোট দেওয়ার? ভোট দেওয়ার ন্যায্যতা কোথায়, যেখানে ভোটের মূল আশ্রয়বাক্যগুলোই আজ নিদারুণ প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে আছে?
Speed, Violence and Exclusion: the Legitimation Crisis of India’s Electoral System VIEW HERE⤡
যেখানে একের পর এক মানুষকে (অল্ট নিউজের প্রাথমিক হিসেবে প্রায় ৯১ লাখ মানুষ!) অনায়াসেই বানানো হয় জ্যান্ত অবস্থায় মৃত, কিংবা অবৈধভাবে স্রেফ ছেঁটে দেওয়া হয় আপিসি কার্যক্রমের নাটকীয় চটজলদি আড়ম্বরে, যখন ইভিএম মেশিনের হিসেব-নিকেশ অতি সহজেই ব্যাপকভাবে এদিক-ওদিক করে দেওয়া যায়, ভোটের বুথের সিসিটিভি ফুটেজের হদিশ মেলে না, নির্বাচন কমিশন সবথেকে ধনী দলের অঙ্গুলিহেলনে ওঠে-বসে, গোণা ভোট এবং দেওয়া ভোটের মধ্যে যেখানে যাবতীয় কোরিলেশন অনেক ক্ষেত্রেই হারিয়ে যায়, অন্য রাজ্য থেকে লোক ঢুকিয়ে ভোট চুরি করানো যায়, আর পয়সা এবং গায়ের জোরের গুন্ডামিটাই যেখানে আসল কথা হয়ে দাঁড়ায়– তখন ভোট দেওয়া অথবা না দেওয়ায় কিই বা যায় আসে?
The Legitimation Crisis of Indian Elections VIEW HERE ⤡
এমত পরিস্থিতিতে “ভোটের ফলাফল = জনগণের রায়” বলাটাও ক্রমশ-সর্বদা প্রশ্নায়িত হতে থাকে।
অঞ্জন দত্তের গানটা মনে পড়েঃ
“তুমি আমি স্কোর গুণে যাব, ঠিক হয়ে গেছে খেলার ফলাফল…”
তখন আমার মতোন পাতি বুর্জোয়া লোকজন কেবল শেয়ার বাজারের ওঠা নামা দেখি ভোটের বাজারে। ফুঃ!
আমি এখনও ক্রমাগত হেলিকপ্টারের শব্দ শুনতে থাকছি। বিরক্ত হচ্ছি। এসব হচ্ছেটা কি? পাখা ঘুরছে… গণতন্ত্রের নাটক চলতেই থাকছে!
তাই বলে কি ইভিএম-এর চেয়ে ব্যালট ভালো? ধুর বাবা। বাইনারিতে ভাবা যায় নাকি ওরকম? ব্যালটের সংখ্যা পুকুরপাড়ে স্তূপীকৃত হতে থাকে, মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে, বোমাবাজি করে ব্যালটের ফলাফল পাল্টে যায়… এতো আমরা কতোবার দেখেছি। তবে হ্যাঁ, পৃথিবীর কোনো তথাকথিত প্রযুক্তি-উন্নত দেশে ইভিএমের ব্যবহার নেই।
EVMs and/or Ballots: Binary Dead-Ends? VIEW HERE ⤡
গণতন্ত্র কথাটার সঙ্গে আজ সমীকৃত হয়ে যায় ‘ভোট’ কথাটা। সুদূরপ্রসারী জনসমাজের সচেতনভাবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত-নেওয়ার প্রক্রিয়ায় বহুমাত্রিক ও সক্রিয় অংশগ্রহণ সেখানে হারিয়ে যায়, বিস্মৃত করে দেওয়া হয়।
“That a political party which works for the defense and growth of capitalism is called “Socialist,” and a despotic government “democratic,” and a rigged election “free” are familiar linguistic-and political-features which long predate Orwell.” — Herbert Marcuse, One-Dimensional Man (1964)
তাছাড়া –
যখন প্রায় প্রত্যেকটা দলই মোটামুটি একই ছাঁচের অর্থনৈতিক মডেলের কথা বলে (যেখানে কথায়-কথায় বিশ্ব ব্যাঙ্ক-প্ররোচিত ধার-নির্ভর “উন্নয়ন” প্রকল্প ঘুরে-ফিরে এসে উপস্থিত হয়), উদ্বায়ী দান-দেওয়া অর্থনীতিতে নির্ভর করতে বলে, কিংবা কঠোর/নরমভাবে ধম্মের কার্ড (নানান মাত্রায়) খেলে চলে গণতন্ত্রের সার্কাসে, মোচ্ছবে, অথবা “শিল্প আনতে হবে / শিল্প চাই – তবে চাকরী হবে” বলে প্রকৃতি-পরিবেশ-বাস্তুতন্ত্রের ভাবনাগুলোকে গোল্লায় পাঠানো হয় — তখন কেবলই মনে হতে থাকেঃ x party = y party = z party…
কোন্ দেবতারে ভোট মোরা করি সমর্পণ? VIEW HERE ⤡
“কোন দিকে ফিরাবে বিমল চক্ষু – কোন দিকে ফিরাবে? কার হাতে রক্ত নেই?”
কোনো রাজনৈতিক দলের কোনোরকম কার্যকলাপ নিয়ে (আমরা) নাগরিকেরা কোনোরকম আর-টি-আই করতে পারবার জায়গা নেই এই ভারতবর্ষে। কেন জানেন? পার্টিগুলো জানিয়েছে যে তারা নাকি “পাব্লিক অথরিটি” নয়। বুঝুন অবস্থা! এই চাড্ডি-আমলে আর-টি-আই ব্যাপারটাই যদিচ প্রায় সবদিক থেকেই মৃত।
RTI Under Siege: The Deadly Costs of Transparency in BJP-Run India VIEW HERE ⤡
তাই তো ফুলে-ফেঁপে উঠতেই থাকে “প্রথম”-সারির পার্টিগুলোর কোষাগার… কোথা থেকে, কিভাবে এতো টাকা আসছে? জানতে চাইবেন না। রাজা-রানীরা রাগ করবে।
হ্যাঁ। দলগুলোর মধ্যে তবুও উনিশ-বিশ তফাৎ তো আছেই, থাকেই। এমন জটিল জালের অতিসরলীকরণ বা চ্যাটাই-চাপানো সামান্যীকরণ হয় না। কেউ বা মারাত্মক ডাকাত-দাঙ্গাবাজ, কেউ চোর-দুর্নীতিগ্রস্ত, কেউ বা ছুপেরুস্তম পিছন থেকে ছুরি মারা ভেকধারীদের দল।
“Socrates. But why, my dear Crito, should we care about the opinion of the many? Good men, and they are the only persons who are worth considering, will think of these things truly as they happened.
Crito. But do you see. Socrates, that the opinion of the many must be regarded, as is evident in your own case, because they can do the very greatest evil to anyone who has lost their good opinion?
Socrates. I only wish, Crito, that they could; for then they could also do the greatest good, and that would be well. But the truth is, that they can do neither good nor evil: they cannot make a man wise or make him foolish; and whatever they do is the result of chance.”
আমি তাই রুপম ইসলামের গান শুনতে বসি।
“জোট সরকারে আস্থা নেই
তাই ভোট শূন্য ব্যালটেই
গণতন্ত্রে তুমি থেকো আমি যাই…”
অনেকে আপত্তি তুলবেনঃ “নোটা” টেপা মানে কি “আমার কিছুতেই কিছু আসে যায় না, আমি অরাজনৈতিক” – এরকম কিছু নয়?
তা হয়তো নয়। ভোটে নোটা দেওয়া, কিংবা একদম পুরোপুরিভাবে ভোট বয়কট করাও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও বার্তাই বটে। “এই দল বা ওই দল”-এর সরল-তরল বাইনারি-ভাবনা পেরোনো গণতান্ত্রিক বহুস্বরের আরেক “অন্য” দিক। কাজেই, অরাজনৈতিক বা রাজনীতি-নিরপেক্ষ বলে কিস্যু হয় না।
এছাড়া নোটার সঙ্গে জুড়ে আছে অনেকগুলো না-রাষ্ট্রবাদী রাজনৈতিকতার প্রেরণার কথা। নোটাকে ২/৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় নিয়ে যেতে পারলে রাইট টু রিজেক্ট থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে রাইট টু রিকলের দাবি আনবার চেষ্টাচরিত্তির করা যেতে পারে। নোটা তখন প্রতীকী বার্তা থেকে হয়ে ওঠে প্রাতিষ্ঠানিক শাসনতান্ত্রিকতায় আঘাত হানা, অন্তর্ঘাত ঘটানো চাপ-দেওয়া গোষ্ঠীবিশেষ। সার্বিক অনাস্থার এমত প্রকাশটাই সেখানে ব্যবস্থাগত/কাঠামোগত হিংসার বিরুদ্ধে তোলা রাজনৈতিক হাতিয়ার।
বারবার যদি অনেক সংখ্যায় নোটা পড়তেই থাকে, তখন সেটা এক বিশেষ রাজনৈতিক সিগন্যাল হিসেবে কাজ করতে পারে।
তবে এখন “নোটা” যেভাবে আমাদের সামনে ভারতরাষ্ট্রের মধ্যে বহাল রয়েছে, তাতে এমন কিছু করতে পারবার জায়গা/সুযোগ বেশ অনেকখানি কম। প্রায় নেই বললেই চলে।
তবে এই অবস্থাতেও নোটার একটা অন্তত বাস্তবিক প্রভাব রয়েছে। নোটার জন্য জয়ের মার্জিন অনেকসময় বেশ খানিকটা কমে পর্যন্ত যেতে পারে। ধরা যাক, পার্টি “অ” পেল ৫০,০০০ ভোট আর পার্টি “আ” পেল ৪৮,০০০ ভোট। তাহলে মার্জিন দাঁড়াবে ২,০০০ ভোট। কিন্তু যদি ৩,০০০ ভোট নোটাতে পড়ে যায়, তাহলে সঙ্গেসঙ্গে বিজয়ীর জয়ের ব্যবধান খুবই কম হয়ে যাবে। কিন্তু এই নোটা ভোটগুলো যদি কোনো বিশেষ একজন প্রার্থী পেত, তাহলে ফলাফলটাই পুরোপুরি উলটে যেতে পারত। তাই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আসনগুলোতে নোটা খুব বড় একটা ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া নোটার কারণে বিজয়ীর ভোটের শতাংশও কম দেখাতে পারে। শতাংশ-নির্ভর হিসেব-নিকেশ করার সময় সাধারণত নোটা ভোটগুলো বাদ দিয়েই হিসাব করা হয়। ফলে লোকে বলে, “আরেহ! জয়ের শতাংশ তো বেশ অনেক কমে গেছে!”
বিগত কিছু নির্বাচনের ক্ষেত্রের নোটার বিষয়টা যদি আমরা নজরে আনি, তাহলে এরকম কিছু তথ্য সামনে উঠে আসেঃ
| বিষয় | ভারত (লোকসভা ২০২৪) | পশ্চিমবঙ্গ (বিধানসভা ২০২১) | তুলনা |
|---|---|---|---|
| মোট নোটা ভোট | ৬৩,৭১,৮৩৯ | ৬,৪৬,৮২৯ | ভারতের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে অনেক বেশি নোটা ভোট পড়ে। |
| নোটা শতাংশ | ০.৯৯% (সবচেয়ে কম) | ১.০৮% | পশ্চিমবঙ্গে সামান্য বেশি |
| ট্রেন্ড | ২০১৪ থেকে কমছে | ২০১৬-এর তুলনায় কম | দুই জায়গাতেই নোটা কমছে |
| সর্বোচ্চ নোটা | ইন্দোর (২.১৮ লক্ষ ভোট) | কয়েকটি আসনে ১.৫-২% | ভারতে এক আসনে রেকর্ড |
অতএব, নোটা-কে হেয় করা বা ছোট করে দেখাটা খুবই সমস্যাজনক, কারণ এতে “নম্বরের স্বৈরাচার” চলে আসতে পারে — অর্থাৎ শুধু বেশি ভোট পেলেই জয় হয়ে যাবে, ভোটারের আসল প্রতিবাদ বা অসন্তোষের কোনো মূল্য থাকবে না। মূলধারার বড়ো পার্টিগুলো নিজেরাই ইন্ডিপেন্ডেন্ট (IND) প্রার্থীদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ঢুকিয়ে দেয়, যার ফলে আদতে ভোট কাটা যায়। এই ডামি প্রার্থীরা আসলে এই পার্টিগুলোরই পরিকল্পিত কৌশলের অংশ— একাধিক প্রার্থী দাঁড় করিয়ে প্রতিপক্ষের ভোট ছিনিয়ে নেওয়া। অন্যদিকে নোটা হলো ভোটারের সৎ ও নৈতিক প্রতিবাদ — কোনো প্রার্থীকেই মেনে নিতে না পারার স্পষ্ট বার্তা। তাই নোটা-কে ছোট করলে আসলে ভোট কাটার এই খেলাটাকেই প্রশ্রয় দেওয়া হয়।
কিন্তু একটা ব্যাপার এতোক্ষণে পাঠকদের মনে হলেও হতে পারে—
এতসব জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা দিয়ে আমি কি আপনাদের নোটায় ভোট দিতে উৎসাহ দিচ্ছি, এমনকি প্ররোচিতও করছি?
একদমই না। আমার বক্তব্য হলো নোটা-কে অবহেলা করাটা ঠিক নয়। নোটা নিয়ে সমালোচনামূলক বিচার-বিশ্লেষণ করাটা দরকারি। আগে-ভাগেই খারিজ করা নয়। এই “খারিজ”কে প্রতিরোধী প্রতর্ক হিসেবে হাজির করাটা জরুরি।
নির্বাচনের ঠিক আগে আজকের এই রাতটা বড়ো নিঠুর, বড়ো অদ্ভুত।
এমন অবস্থায় এই বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে বসেছিলাম, তাই মনে হলো আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিই। আর এর প্রতিটা কথাই প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রকে তর্কের খাতিরে পেত্থমেই বৈধতা দিয়েই বলেছি। সে বৈধতা না দিলে আমি বলবো পার্টিহীন, কৌম-নির্ভর, জৈবঅঞ্চল-কেন্দ্রিক নানান ক্ষুদ্র সরাসরি গণতন্ত্রের কথা। সে আবার অন্য আলোচনা।
কিন্তু হ্যাঁ। এতোসবের পরেও একটা সিদ্ধান্ত খুব পরিষ্কার। ধর্ম নিয়ে নোংরা রাজনীতি করা ধ*র্ষক-খুনী ভরা সদাগর পোষিতদের দলকে ভোট দেওয়া মানে হলো বাংলার বিপুল সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক ঐতিহ্যের পায়ে কুড়ুল মারা।
কিন্তু, কে আর পড়বে এমন বয়ান? সারা দেশ এখন এগুচ্ছে ভয়াবহ রাজনৈতিক নিরক্ষতায়, কারণ শাসক বোকারাম–রামপাঁঠাদেরই চায়।
#বয়কট_সঙ্ঘ_পরিবার
#বয়কট_বিজেপি
আমরা যখন বাইনারি দলাদলি নিয়ে ভাবছি, তখন চলছে লুকোনো অন্দরে চলে মহাভোজ। এই নামে একটা উপন্যাস আর নাটক আছে না? হ্যাঁ, মন্নু ভণ্ডারির “মহাভোজ”।
উপন্যাস/নাটকের ঘটনাস্থল সারোহা থেকে ২০ কিমি দূরের একটি গ্রাম।
নাটকের অন্যতম চরিত্র দলিত যুবক বিশু, যে আবার একজন শিক্ষিত, সচেতন ও সক্রিয় বিপ্লবী কর্মী। সে বেলছি হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে প্রমাণ সংগ্রহ করছিল। ফলে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তার মৃতদেহটা রাস্তার ওপর শকুনের খাবার হয়ে পড়ে থাকে।
এই হত্যাকে রাজনৈতিক দলগুলো ভোটব্যাঙ্কের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। শাসক দলের নেতা দা সাহেব ও বিরোধী দলের সুকুল বাবু –দু’দলেরই পাণ্ডারা নিজেদের স্বার্থে ঘটনাটাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে থাকে। পুলিশ সত্য গোপন করে মামলা ধামাচাপা দিতে চায়। মিডিয়া সংবেদনশীলতা দর্শানোর পরিবর্তে সংবাদকে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে ফেলে। এই অবস্থায় বিশুর সঙ্গী বিন্দা (কখনো কখনো সৎ পুলিশ অফিসার সাকসেনা) সত্যের লড়াই চালিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত আধিপত্যকারী অবস্থা-ব্যবস্থা জিতে যায় আর “free and just society”-র বি-কল্প-না যায় হারিয়ে।
এই নাটকে সবচেয়ে তীক্ষ্ণভাবে উন্মোচিত হয়েছে রাজনৈতিক দলাদলি, পুলিশ ও মিডিয়ার অশুভ আঁতাত। স্পষ্ট হয়ে যায় যে ক্ষমতাসীন শ্রেণি কীভাবে একজন দলিত সক্রিয়কর্মীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে নির্লজ্জভাবে “প্রেমঘটিত ঘটনা” বা “আত্মহত্যা” বলে চালিয়ে দেয়।
নাটকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জাতিবৈষম্য ও শোষণের চিত্র। বিশু স্রেফ কোনো সাধারণ দরিদ্র দলিত চরিত্র নয়; সে সচেতন রাজনৈতিক কর্মী। কাজেই, ওর এই সচেতনতাই উচ্চবর্ণের জমিদার ও রাজনৈতিক দলের কাছে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। শুধু সহিংস শারীরিক শোষণ নয়, শিক্ষিত দলিতের উত্থান যে ক্ষমতার কাঠামোগত ভিত নড়িয়ে দিতে পারে – সেই “অন্য” দিকটাও আমাদের সামনে হাজির করে এই নাটক।
হত্যাকে (রিজানুর থেকে অভয়া থেকে তমন্না থেকে আসিফা) ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির হাতিয়ার বানানো হয়েছে অত্যন্ত ব্যঙ্গাত্মকভাবে। বিশুর মৃতদেহকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী উভয় দলই নিজেদের রাজনৈতিক “মহাভোজ” আয়োজন করে। হত্যা আর শোক থাকে না, বরং ভোটের মোচ্ছবে পরিণত হয়।
এই নাটক ন্যায়ের কু-বিশ্বাসকে ( “bad faith” বা mauvaise foi) প্রমুখিত করে। আমলাতন্ত্র ও বিচারব্যবস্থা যে ক্ষমতাসীনদেরই সেবাদাস — এই সত্যটি নির্মমভাবে ফুটে ওঠে। আইনের শাসনের নামে চলে ন্যায়ের হত্যা – প্রতিদিন, প্রত্যহ।
তবু হতাশা নয়। প্রান্তিক মানুষের প্রতিরোধ এই নাটকের সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক। বিন্দার মতো চরিত্রের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি যে একের পর এক হত্যা ও বিশ্বাসঘাতকতার মধ্যেও লড়াই কিন্তু কখনোই থেমে থাকে না। প্রতিরোধ হয়ে ওঠে ধারাবাহিক, অবিরাম, চিরন্তন এবং অনিবার্য।
সামগ্রিকভাবে মহাভোজ শুধু একটি নাটক নয়, বরং ভারতীয় গণতন্ত্রের ক্ষতবিক্ষত মুখের সামনে এক তীব্র আয়না — যা এখনও, এই ২০২৬ সালেও, সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও অস্বস্তিকর।
এত্তোসব লুকোনো মহাভোজ দেখে মনে পড়ছে কি “জানে ভি দো ইয়ারো”-শেষ দৃশ্যের কথা?
Comments
Post a Comment